জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তামাম দুনিয়ায় নতুন নতুন শিল্পকলকারখানা তৈরি হচ্ছে, অথচ শিল্পের রাজধানী খুলনায় শিল্পকে খুন করা হয়েছে। আমরা যদি আল্লাহর রহমতে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আর কোনো মিলে তালা ঝুলবে না। বরং নতুন নতুন মিল ও কারখানা তৈরি করে খুলনার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে।”
খুলনার বর্তমান বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “খুলনাবাসীর সঙ্গে বসে ডায়ালগ করা হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “বেকারদের বেকারভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই। বেকারদের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নতুন বাংলাদেশের কারিগর তৈরি করার মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই।”
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হবে—বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় মায়ের মর্যাদা এবং পূর্ণ নিরাপত্তা।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমি খুলনায় জামায়াতের পক্ষে কথা বলতে দাঁড়াইনি। সন্তানহারা মায়ের কান্না দূর করতে, ভাই হারানো বোনের আর্তনাদ দূর করতে, এতিমদের পক্ষে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি।”
তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশবাসীকে বলেছিলাম—আমার দলের নেতাকর্মীরা জুলুম, হামলা, মামলা ও হত্যার শিকার হয়েছে। কিন্তু আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না। আমরা কথা রেখেছি। যে কারণে দেশের ১৮ কোটি মানুষ বুঝতে পেরেছে, আমাদের কাছে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ।”

একটি দল কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তারা কার্ড দেওয়ার নামে আমার নারীদের হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা কার্ড দেওয়ার নামে আমার মায়েদের গায়ে হাত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চাচ্ছে। আমরা সেটা হতে দেব না।” এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আমিরে জামায়াতের কাছে খুলনাবাসীর পক্ষে ৬টি দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো: বিলডাকাতিয়া, বিলবাদুড়িয়াসহ সব বিলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা।
নির্বাচনী সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, খুলনা-৪ আসনের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খুলনা-১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, খুলনা-৬ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবুল কামাল আজাদ, জেলা আমির মাওলানা ইমরান হুসাইন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খুলনা-২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।
খুলনা গেজেট/এএজে



